Home বাংলাদেশ ভারতে করোনা ট্র্যাকিং অ্যাপ ‘আরোগ্য সেতু’ নিয়ে এত বিতর্ক কেন?

ভারতে করোনা ট্র্যাকিং অ্যাপ ‘আরোগ্য সেতু’ নিয়ে এত বিতর্ক কেন?

by crictake

ভয়াবহ হয়ে উঠছে ভারতের করোনা পরিস্থিতি। গতকাল একদিনে সর্বোচ্চ প্রাণহানির রেকর্ড হয়েছে। দেশটিতে শনিবার মৃত্যুবরণ করেছেন ১০০ জন। মোট মৃত্যু বেড়ে এক হাজার ৩২৩ জনে দাঁড়াল। প্রশ্ন উঠছে তবে কি করোনার পরবর্তী মৃত্যুপুরী ভারত? এমন পরিস্থিতিতে তৃতীয় দফায় লকডাউনের মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে মোদি সরকার। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি কর্মীদের জন্য ‘আরোগ্য সেতু’ অ্যাপের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এরই মধ্যে ৫ কোটির বেশি মানুষ অ্যাপটি ব্যবহার করছেন। তবে করোনাভাইরাস মোকাবেলার লক্ষ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় তৈরি এই মোবাইল অ্যাপ-কে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে ভারতে।

‘আরোগ্য সেতু’ নামে ওই অ্যাপটির ডাউনলোড ও ব্যবহার সব সরকারি ও বেসরকারি কর্মচারীদের জন্য কেন্দ্র গতকালই বাধ্যতামূলক ঘোষণা করেছে। আর এর পরই বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন এই অ্যাপ-টি একটি ‘আধুনিক নজরদারির সিস্টেম’ ছাড়া কিছুই নয়। এর আগেও ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশন-সহ একাধিক সংস্থা এই অ্যাপটি কতখানি সুরক্ষিত, সে প্রশ্ন তুলেছিল।

রাহুল গান্ধীর অভিযোগ খারিজ করে শাসক দল বিজেপি অবশ্য বলছে, তিনি অযথা মিথ্যা ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চাইছেন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকানোর চেষ্টায় ভারত সরকার গত মাসের গোড়ার দিকে আরোগ্য সেতু নামে এই মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনটি লঞ্চ করেছিল – যা এর মধ্যেই দেশের ৫ কোটিরও বেশি মানুষ ডাউনলোড করেছেন।

কীভাবে কাজ করে আরোগ্য সেতু?

ভারতের এগারোটি ভাষায় ব্যবহারযোগ্য এই অ্যাপটি একজনকে বলে দেয়, তার আশেপাশে কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে কোনো কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী আছেন কি না – অথবা তার শরীরে কোনও উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকরা ঠিক কী ধরনের পরামর্শ দিচ্ছেন।

ভারতে ন্যাশনাল ইনফর্মেটিকস সেন্টারের মহাপরিচালক ড: নীতা ভার্মার কথায়, ‘মূলত এই অ্যাপটি ভারতের নাগরিকদের নিজেদেরই একটা মূল্যায়ণ করার সুযোগ দিচ্ছে যে তাদের করোনাবাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি ঠিক কতটা। এর জন্য অ্যাপে তাদেরকে কতগুলো প্রশ্ন করা হয়, তার উত্তরের ভিত্তিতে তাকে অ্যাসেস করা হয়, তার উপসর্গগুলো দেখা হয়, তার ভ্রমণের ইতিহাস দেখা হয় ইত্যাদি।’

গতকাল ভারত সরকার জানায়, তৃতীয় দফায় দেশে লকডাউন কিছুটা শিথিল হওয়ার পর যে কর্মচারীরা সোমবার থেকে কাজে যোগ দেবেন তাদের বাধ্যতামূলকভাবে এই অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে।

এরপরই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী টুইট করেন – ‘এই অ্যাপটি একটি ‘সফিস্টিকেটেড সার্ভেইলেন্স সিস্টেম’, যা বেসরকারি সংস্থার কাছে আউটসোর্স করে দেওয়া হয়েছে। মহামারির ভয় দেখিয়ে নাগরিকদের সম্মতি ছাড়াই তাদের ওপর এখানে নজরদারি চালানো হচ্ছে, ট্র্যাক করা হচ্ছে।’

অ্যাপটিকে নিয়ে আপত্তি কেন?

কংগ্রেসের সাইবার সেলের চেযারম্যান রোহন গুপ্তা জানাচ্ছেন, ‘এই অ্যাপে ক্লজ সিক্সে পরিষ্কার লেখা আছে যদি আপনার তথ্য অনধিকৃতভাবে ব্যবহৃত হয়, সরকার তার জন্য দায়ী থাকবে না। আমরা অ্যাপের বিরুদ্ধে নই, কিন্তু আপনাকে তো উদ্দেশ্যটা পরিষ্কার করতে হবে?।

তিনি বলেন, ‘সরকারকে তো জানাতে হবে এই আরোগ্য সেতু কীসের সঙ্গে সংযুক্ত, এই ডেটা সরকারের কোন বিভাগ ব্যবহার করতে পারবে, এটা স্বল্পমেয়াদী না কি দীর্ঘমেয়াদি অ্যাপ, না কি শুধু করোনার জন্যই – যে প্রশ্নগুলোর কোনও উত্তর নেই!’

ভারতে যেহেতু কোনও উপযুক্ত ডেটা প্রোটেকশন বা তথ্য সুরক্ষা আইন নেই – তাই এই ধরনের অ্যাপে নাগরিকদের তথ্য আদৌ কতটা নিরাপদ থাকবে গত কয়েক সপ্তাহে অনেক এনজিও-ই বারবার সে প্রশ্ন তুলেছে।

‘ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশন’ সেই সঙ্গেই বলেছে, ভারতের কোটি কোটি গরিব মানুষ, যাদের হাতে স্মার্টফোন নেই, এই অ্যাপ তাদের কোনও কাজেই আসবে না।

সূত্র- বিবিসি বাংলা।

You may also like

Leave a Comment